টানা বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে দ্রুত বাড়ছে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানি। এরই মধ্যে পানিতে তলিয়ে গেছে জেলার অন্যতম প্রধান পর্যটন আকর্ষণ রাঙামাটি ঝুলন্ত সেতুর পাটাতন।
শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে মাত্র এক ঘণ্টার ভারী বৃষ্টির পর সেতুটির পাটাতন পানির প্রায় চার ইঞ্চি নিচে চলে যায়। পাটাতন ডুবে গেলেও ঝুঁকি নিয়ে এখনো সেতুর ওপর দিয়ে চলাচল করছেন পর্যটক ও স্থানীয়রা।
এ অবস্থায় পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সেতু এলাকায় সতর্কতা জোরদার এবং প্রয়োজন হলে সাময়িকভাবে প্রবেশ বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শুক্রবার রাতভর বৃষ্টির পর শনিবারও রাঙামাটিতে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত ছিল। এতে দ্রুত বাড়তে থাকে কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা।
কাপ্তাই কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে হ্রদের পানির উচ্চতা দাঁড়িয়েছে ১০৫ দশমিক ৬৪ ফুট এমএসএল। আর মাত্র চার ফুট পানি বাড়লেই তা বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।
এদিকে হ্রদের পানি বেড়ে যাওয়ায় বাঘাইছড়ি ও বিলাইছড়ি উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সড়কে পানি উঠে যাওয়ায় সাজেক-বাঘাইহাট সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শনিবার রাত ১০টার দিকে কাপ্তাই বাঁধের ১৬টি স্পিলওয়ে গেট ছয় ইঞ্চি করে খুলে দেওয়া হয়েছে।
কাপ্তাই কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, স্পিলওয়ে গেট দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে নিষ্কাশন করা হচ্ছে।
এর পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী পাঁচটি ইউনিটের মাধ্যমে আরও প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি হ্রদ থেকে নিষ্কাশন করা হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। উজান থেকে পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পানি নিষ্কাশনের পরিমাণ আরও বাড়ানো হতে পারে।
এদিকে কাপ্তাই হ্রদের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষ ও পর্যটকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।