শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৪ অপরাহ্ন
Headline :
জিএসটি গুচ্ছ ভর্তি প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে পারে আরও ২-৩ বিশ্ববিদ্যালয় রাঙ্গামাটিতে হারানো আইফোন ১০ ঘণ্টায় উদ্ধার করল ১৮ এপিবিএন সাইবার ক্রাইম সেল পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই লেকে ফের পানি বৃদ্ধি, ১৬ জলকপাট উন্মুক্ত অনলাইনে পণ্য বিক্রির নামে ৪৯ হাজার টাকা আত্মসাৎ, পিবিআইয়ের হাতে প্রতারক চক্রের দুই সদস্য গ্রেফতার আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষায় নোবিপ্রবির ইএসডিএম বিভাগের শিক্ষার্থীদের সাফল্য, এক মাসে ১০ জনের স্কলারশিপ “একটি সহানুভূতিশীল কথাই বাঁচাতে পারে প্রাণ”: নোবিপ্রবিতে আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবসের র‍্যালি গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উদ্যোগে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল এর আউটলেট প্যাথলজি ল্যাব , জিএমপি-এর শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত । পাথরঘাটায় কোস্ট গার্ডের অভিযান: ৩৫০ কেজি হরিণের মাংস, চামড়া ও মাথাসহ আটক ১ ‘সরকারের ১৮০ দিনের ব্যর্থতা’র পাল্টা নোবিপ্রবি ছাত্রদলের ‘প্রথম ৬ মাসের উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম’ এর ব্যানার ‘শিক্ষার অধিকার ফিরে চাই’ ব্যানারে নিষিদ্ধ ঘোষিত জবি ছাত্রলীগের মিছিল

তাহলে কি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ অনিবার্য?

বিশ্ব কি নতুন কোনো বৈশ্বিক সংঘাতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে? যুদ্ধ, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, জলবায়ু পরিবর্তন, রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং পারমাণবিক অস্ত্রের ঝুঁকি—সব মিলিয়ে বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ইউক্রেন, মধ্যপ্রাচ্য, সুদান ও মিয়ানমারসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত অব্যাহত থাকায় প্রশ্ন উঠছে—এসব আঞ্চলিক সংকট কি একসময় বড় ধরনের বৈশ্বিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে?

তবে বর্তমান পরিস্থিতিকে সরাসরি ‘তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের শুরু’ হিসেবে চিহ্নিত করার মতো নিশ্চিত প্রমাণ এখনো নেই। বরং একাধিক সংঘাত, পরাশক্তিগুলোর পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর চাপকে সম্ভাব্য ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।

একাধিক সংঘাত, বাড়ছে উদ্বেগ

ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত—বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ ও মানবিক বিপর্যয় তৈরি হয়েছে। এসব সংঘাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বড় শক্তিগুলোর সম্পৃক্ততা থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের বিস্তার ফিলিস্তিন, লেবানন, সিরিয়া, ইয়েমেন, ইরাক ও ইরানসহ বিস্তৃত অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করেছে। একই সময়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ইউরোপের নিরাপত্তা কাঠামো এবং পশ্চিমা দেশগুলোর পারস্পরিক সম্পর্কের ওপরও বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, কোনো একটি সংঘাত যদি ভুল হিসাব, সামরিক ভুল সিদ্ধান্ত কিংবা সরাসরি পরাশক্তির সংঘর্ষের মাধ্যমে নতুন মাত্রা পায়, তাহলে এর প্রভাব আঞ্চলিক সীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

জোট রাজনীতিতে টানাপোড়েন

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গড়ে ওঠা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কাঠামোও বর্তমানে নানা চ্যালেঞ্জের মুখে। জাতিসংঘ, ন্যাটো, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক প্রতিষ্ঠান শান্তি ও সহযোগিতার জন্য কাজ করলেও তাদের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি, ইউরোপের নিরাপত্তা, ন্যাটোর ভবিষ্যৎ ভূমিকা এবং চীন-রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান প্রভাব—সবকিছু মিলিয়ে আন্তর্জাতিক শক্তির ভারসাম্য দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে।

এশিয়াতেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। তাইওয়ানকে ঘিরে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ফিলিপাইন ও অস্ট্রেলিয়ার নিরাপত্তা উদ্বেগ অঞ্চলটির ভূরাজনীতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

পারমাণবিক অস্ত্রই সবচেয়ে বড় আতঙ্ক

বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর ঝুঁকিগুলোর একটি পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার ও আধুনিকায়ন। পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলো তাদের অস্ত্রভাণ্ডার ও ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা আধুনিক করছে।

বিশেষ করে যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারের উপযোগী ছোট আকারের বা কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের আশঙ্কা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

কারণ কোনো সংঘাতে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করা হলে তার প্রতিক্রিয়া শুধু সংশ্লিষ্ট দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। পাল্টা হামলা ও সামরিক জোটের বাধ্যবাধকতা পরিস্থিতিকে দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যেতে পারে।

জলবায়ু পরিবর্তনও বাড়াচ্ছে সংঘাতের ঝুঁকি

যুদ্ধের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনও ভবিষ্যতের নিরাপত্তা ঝুঁকিকে বাড়িয়ে তুলছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধি, দীর্ঘস্থায়ী খরা, বন্যা, খাদ্য ও পানির সংকট এবং বাস্তুচ্যুতি—এসব সমস্যা বিভিন্ন অঞ্চলে সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।

একটি অঞ্চলে খাদ্য ও পানির সংকট দেখা দিলে মানুষ অন্য অঞ্চলে চলে যেতে বাধ্য হয়। এর ফলে অভিবাসন, সীমান্ত উত্তেজনা ও সম্পদের ওপর চাপ বাড়তে পারে।

অর্থনৈতিক সংকটও এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। মূল্যস্ফীতি, সরকারি ঋণ, বাণিজ্যঘাটতি এবং প্রযুক্তি খাতে অতিরিক্ত বিনিয়োগ নিয়ে বিশ্বের বড় অর্থনীতিগুলোতেও উদ্বেগ রয়েছে।

মানবিক সংকটের বিস্তার

যুদ্ধ ও জলবায়ু বিপর্যয়ের সবচেয়ে বড় শিকার সাধারণ মানুষ। বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। কোথাও খাদ্যসংকট, কোথাও চিকিৎসার অভাব, আবার কোথাও নিরাপদ আশ্রয়ের সংকট দেখা দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলোও অর্থসংকটে পড়ায় দীর্ঘমেয়াদি মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে উঠছে বলে উদ্বেগ রয়েছে।

এর ফলে যুদ্ধের পাশাপাশি ক্ষুধা, দারিদ্র্য, রোগব্যাধি ও শরণার্থী সংকটও বিশ্বব্যাপী নতুন চাপ তৈরি করছে।

গণতন্ত্র ও আন্তর্জাতিক আইনের ওপর চাপ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, আইনের শাসন এবং মানবাধিকার নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। রাজনৈতিক মেরুকরণ, উগ্র জাতীয়তাবাদ এবং কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা অনেক দেশে রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কার্যকারিতা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। শক্তিশালী রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োগ কতটা কার্যকর হবে—সেটিও বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অর্থনীতিতে বড় ঝুঁকি

বিশ্ব অর্থনীতির ক্ষেত্রেও অনিশ্চয়তা কমেনি। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের সরকারি ঋণ, মূল্যস্ফীতি এবং আর্থিক বাজারের অস্থিরতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি খাতে বিপুল বিনিয়োগ নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি করলেও অতিরিক্ত মূল্যায়ন ও বিনিয়োগের ঝুঁকি নিয়েও আলোচনা চলছে।

যদি বড় কোনো আর্থিক সংকট দেখা দেয়, তার প্রভাব কর্মসংস্থান, খাদ্য ও জ্বালানির দাম এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর পড়তে পারে।

তাহলে কি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ অনিবার্য?

এখনই এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। বিশ্বে একাধিক সংঘাত থাকলেও একই সঙ্গে সংঘাত নিয়ন্ত্রণের জন্য কূটনৈতিক যোগাযোগ, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন দেশের মধ্যে সহযোগিতাও বিদ্যমান।

জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক আদালত, আঞ্চলিক জোট ও বিভিন্ন কূটনৈতিক উদ্যোগ এখনো যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে ভূমিকা রাখছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—বড় শক্তিগুলোর মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাত এড়ানো এবং পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ঝুঁকি কমানো।

আশার জায়গা সাধারণ মানুষ

বিশ্ব যতই অস্থির হোক, পরিবর্তনের সম্ভাবনাও রয়েছে। বিভিন্ন দেশে তরুণ প্রজন্ম যুদ্ধ, বৈষম্য, দুর্নীতি, কর্তৃত্ববাদ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হচ্ছে।

ইতিহাস দেখিয়েছে, আন্তর্জাতিক রাজনীতি শুধু রাষ্ট্রপ্রধান ও সামরিক শক্তির সিদ্ধান্তে নির্ধারিত হয় না। সাধারণ মানুষের মতামত, সামাজিক আন্দোলন, কূটনৈতিক চাপ এবং শান্তির দাবি অনেক সময় বড় পরিবর্তনের পথ তৈরি করেছে।

তাই বর্তমান পরিস্থিতি যতটা উদ্বেগজনকই হোক, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ অনিবার্য—এমনটা বলার সুযোগ নেই।

বরং আগামী দিনের বিশ্ব কোন পথে যাবে, তা অনেকটাই নির্ভর করবে রাষ্ট্রগুলোর দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত, কূটনৈতিক সংলাপ, আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মান এবং মানুষের শান্তি ও সহযোগিতার আকাঙ্ক্ষার ওপর।

যুদ্ধের বদলে সংলাপ, সংঘাতের বদলে সহযোগিতা এবং ক্ষমতার রাজনীতির বদলে মানবিকতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া সম্ভব হলে বৈশ্বিক বিপর্যয় এড়ানোর সুযোগ এখনো রয়েছে।

Share this news as a Photo Card


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page
07 September 2026

তাহলে কি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ অনিবার্য?

www.deshbanglabd.tv |
deshbanglatvnews
deshbanglatvnews