গাজীপুরের জরুন এলাকায় অবস্থিত কেয়া কসমেটিকস লিমিটেডের চারটি কারখানার ৬১৩ শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছে। সোমবার রাতে কারখানার প্রধান ফটকের দেয়ালে ছাঁটাইয়ের তালিকা টানিয়ে দেওয়া হয়। মঙ্গলবার সকালে বিষয়টি জানতে পারেন শ্রমিকরা।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়িক মন্দার কারণে কেয়া গ্রুপের কারখানাগুলোতে সংকট চলছিল। সম্প্রতি তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে কারখানাগুলো লে-অফে ছিল। গত শনিবার শ্রমিক-কর্মচারীরা কারখানার প্রধান ফটকের সামনে প্রতিবাদ সভা করে দ্রুত বকেয়া পাওনা পরিশোধ এবং কারখানা খুলে দেওয়ার দাবি জানান।
এর দুই দিন পরই কারখানার প্রধান ফটকে ছাঁটাইয়ের তালিকা টানিয়ে দেওয়া হয়। এতে শ্রমিকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম হতাশা ও অনিশ্চয়তা। শ্রমিকদের অভিযোগ, কয়েক মাসের বেতনসহ আগের পাওনাদি এখনো পরিশোধ করা হয়নি। এর মধ্যে হঠাৎ ছাঁটাইয়ের তালিকা প্রকাশ করায় তারা বিপাকে পড়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ডাইং অপারেটর বলেন, তিনি প্রায় ২০ বছর ধরে এই কারখানায় কাজ করছেন। সকালে এসে ছাঁটাইয়ের তালিকায় নিজের নাম দেখে তিনি হতবাক হয়ে যান। দীর্ঘদিন বেতন না পাওয়ার পর এখন চাকরিও হারিয়েছেন—কী করবেন, তা বুঝতে পারছেন না তিনি।
শিল্পী নামে এক গার্মেন্টস অপারেটর বলেন, তারা কারখানায় কাজ করতে চেয়েছিলেন, ছাঁটাই হতে চাননি। কয়েক মাস ধরে বেতন না পাওয়ায় এমনিতেই পরিবার নিয়ে কষ্টে ছিলেন। এখন চাকরি হারিয়ে তাদের ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন জানান, কেয়া কসমেটিকসের চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরিত একটি নোটিশ তারা পেয়েছেন। সেখানে কেয়া নিট কম্পোজিট, কেয়া ইয়ং, কেয়া স্পিনিং ও কেয়া নিটিং—এই চার প্রতিষ্ঠানের ৬১৩ শ্রমিককে ছাঁটাইয়ের কথা উল্লেখ রয়েছে।
নোটিশে গ্যাস লাইন বিচ্ছিন্ন হওয়া, ব্যাংকিং জটিলতা, ব্যবসায়িক মন্দা এবং অফিস খরচ কমানোর কারণ দেখিয়ে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের কথা বলা হয়েছে।
এদিকে কেয়া গ্রুপের মানবসম্পদ বিভাগের ব্যবস্থাপক সাবিনা জানান, ছাঁটাই করা শ্রমিকদের যাবতীয় পাওনা আগামী ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে পরিশোধ করা হবে।
তবে কর্তৃপক্ষের এই আশ্বাসে সন্তুষ্ট নন শ্রমিকরা। দ্রুত বকেয়া বেতন ও আইন অনুযায়ী সব পাওনা পরিশোধের পাশাপাশি তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
মো. মনিরুল ইসলাম