অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডা। যৌথভাবে ঘোষণা দিয়ে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিতে উৎপাদিত পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে দেশ তিনটি।
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড পার্লামেন্টে বলেন, অন্যায় ও মানুষের দুর্দশার বিষয়ে শুধু প্রতিবাদ জানিয়ে বসে থাকবে না লন্ডন। পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ ঠেকাতে এখন সরাসরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তাঁর দাবি, এসব বসতি দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনাকে ধ্বংস করছে।
এদিকে নতুন নিষেধাজ্ঞার তীব্র সমালোচনা করেছে ইসরায়েল। দেশটির অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন। আর জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির পূর্ব জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতও নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করেছেন। ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ ব্রিটেনের বিরুদ্ধে তাঁর দেশের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছেন।
তবে দুই দেশের বিপুল বাণিজ্যের ওপর এই নিষেধাজ্ঞার প্রভাব তুলনামূলকভাবে সীমিত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, বসতিতে উৎপাদিত পণ্যের বড় অংশই কৃষিপণ্য ও ওয়াইন।
এদিকে পশ্চিম তীরে ‘ই–ওয়ান’ বসতি প্রকল্প নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফিলিস্তিনিদের জন্য প্রস্তাবিত ভূখণ্ডে এই প্রকল্প দ্বিরাষ্ট্র সমাধানকে আরও কঠিন করে তুলবে বলে সতর্ক করেছে যুক্তরাজ্য।
এর মধ্যেই পশ্চিম তীরে আরও এক হাজার নতুন বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী স্মোট্রিচ। জাতিসংঘসহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশ পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকে আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে অবৈধ বলে মনে করে।