এক সাধারণ গৃহবধূ থেকে কোটি মানুষের প্রিয় নেত্রী। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অবিসংবাদিত ব্যক্তিত্ব এবং দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। একনায়কতন্ত্র, স্বৈরাচার আর ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আজীবন লড়াই করে তিনি ভূষিত হন ‘আপসহীন নেত্রী’র মর্যাদায়।
১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট জন্ম নেওয়া পুতুল শৈশব কাটান দিনাজপুরে। ১৯৬০ সালে সেনা কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের সাথে পরিণয়। ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে দুই সন্তানসহ বন্দিজীবন এবং ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর এক চরম সংকটে পড়ে দল ও জাতি। বাকরুদ্ধ গৃহবধূ তখন জাতির প্রয়োজনে তুলে নেন রাজনীতির পতাকা।
১৯৮২ সালে বিএনপিতে যোগ দিয়ে স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন সামনে থেকে। ১৯৯১ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি নির্বাচিত হন মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী সরকার প্রধান হিসেবে। তাঁর শাসনামলে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা ও অর্থনৈতিক সংস্কার দেশকে এগিয়ে নেয় বহু দূর।
রাজনীতির বাঁকে বাঁকে সহ্য করেছেন চরম রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন। স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি হারানো থেকে শুরু করে দীর্ঘ কারাবাস ও অসুস্থতা—কোনো কিছুই তাঁর আপসহীন মনোবলকে টলাতে পারেনি। অবশেষে চব্বিশের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে দীর্ঘ দুঃশাসনের অবসানে বন্দিদশা থেকে পুরোপুরি মুক্তি পান তিনি।
৮০ বছর বয়সে তাঁর প্রয়াণে অনুষ্ঠিত হয় স্মরণকালের অন্যতম বৃহত্তম জানাজা। তাঁর রেখে যাওয়া আদর্শ ও আপসহীন চেতনাকে ধারণ করে আজ দলের হাল ধরেছেন তাঁরই সুযোগ্য উত্তরসূরি তারেক রহমান। বাংলাদেশের গণতন্ত্র, সার্বভৌমত্ব ও মানুষের অধিকারের ইতিহাসে বেগম খালেদা জিয়া চিরকাল বেঁচে থাকবেন এক অবিস্মরণীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে।