সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার চামরদানী ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামে অবস্থিত চামরদানী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে প্রায় ৪০টি গ্রামের ৩০ হাজারের মতো মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইউনিয়নবাসীর চিকিৎসাসেবার কথা বিবেচনা করে তৎকালীন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল হেকিম তালুকদার স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণের জন্য জমি দান করেন। ওই জমিতে নির্মিত হয় দুইতলা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের ভবন।
১৯৯১ সালের ২২ জুন তৎকালীন ধর্মপাশা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল তালুকদার আনুষ্ঠানিকভাবে কেন্দ্রটির উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর সেখানে একজন চিকিৎসকও নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। শুরুতে স্থানীয় মানুষ নিয়মিত চিকিৎসাসেবা পেলেও পরবর্তীতে কোনো কার্যকর কারণ ছাড়াই কেন্দ্রটির চিকিৎসাসেবা বন্ধ হয়ে যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এক যুগেরও বেশি সময় ধরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম কার্যত বন্ধ। ফলে প্রত্যন্ত এলাকার সাধারণ মানুষ সামান্য অসুস্থতার জন্যও দূরের উপজেলা সদরে ছুটতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে সময় ও অর্থ দুটোই ব্যয় হচ্ছে। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্কদের চিকিৎসা নিতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, সরকারি অর্থে নির্মিত এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি যদি নিয়মিত চালু থাকে, তাহলে চামরদানী ইউনিয়নের পাশাপাশি আশপাশের প্রায় ৪০টি গ্রামের মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব। দীর্ঘদিন ধরে ভবনটি পড়ে থাকায় একদিকে যেমন সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার হচ্ছে না, অন্যদিকে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন হাজারো মানুষ।
এলাকাবাসীর দাবি, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে দ্রুত চিকিৎসক, নার্স ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দিয়ে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা চালু করা হোক। পাশাপাশি ভবন ও চিকিৎসা সরঞ্জামের প্রয়োজনীয় সংস্কার ও ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মহোদয়ের কাছে স্থানীয় অবহেলিত সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে জোর দাবি—চামরদানী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি দ্রুত চালু করে দীর্ঘদিনের চিকিৎসাসেবা সংকটের অবসান করা হোক।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে এবং দীর্ঘদিনের তালা খুলে আবারও এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসাসেবার কার্যক্রম শুরু হবে আশা স্থানীয়দের।