কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি: ওসমান সরওয়ার,
কক্সবাজার-টেকনাফ দৃষ্টিনন্দন মেরিন ড্রাইভ সড়কে বেপরোয়া গতির প্রাণঘাতী প্রতিযোগিতায় ঝরে গেল আরও এক তরুণের প্রাণ। মঙ্গলবার দুপুরে উখিয়া উপজেলার জালিয়া পালং ইউনিয়নের মনখালী মাদারবুনিয়া উপকূলীয় এলাকায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অপর এক আরোহী গুরুতর আহত হয়েছেন।
নিহত তরুণের বাড়ি চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলায় বলে উখিয়া থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ছাড়া দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিকে শনাক্ত করা গেছে, তাঁর বাড়ি কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকায়।
সংঘর্ষের ভয়াবহতা
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার দুপুরে টেকনাফগামী একটি দ্রুতগতির প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা মোটরসাইকেলটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। বিকট শব্দে আশপাশের এলাকা কেঁপে ওঠে। সংঘর্ষের তীব্রতায় মোটরসাইকেলটি চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে সড়কের বাইরে ছিটকে পড়ে। মারাত্মক আঘাত পেয়ে বাইক চালক ঘটনাস্থলেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এবং সঙ্গে থাকা অপর আরোহী গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পর সাগরের তীরঘেঁষা মেরিন ডাইভে কিছুক্ষণ যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয় এবং স্থানীয়দের মাঝে গভীর শোক ও চঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
আইনি পদক্ষেপ ও উদ্ধার অভিযান, খবর পেয়ে উখিয়া ও টেকনাফ থানা পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠান এবং আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করেন।
উখিয়া থানা সূত্রে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনাকবলিত প্রাইভেট কার ও দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া মোটরসাইকেলটি জব্দ করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনার জন্য চালকের অসাবধানতা ও অনিয়ন্ত্রিত গতিকেই দায়ী করা হচ্ছে।
উখিয়া থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, “নিহতের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় নিশ্চিত হয়ে সাতকানিয়ায় তাঁর পরিবারকে খবর দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। আহত ব্যক্তি বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”
অনিয়ন্ত্রিত গতি ও ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা
নৈসর্গিক সৌন্দর্যমণ্ডিত কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কটি দিন দিন বিপজ্জনক মৃত্যুফাঁদে পরিণত হওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পর্যাপ্ত গতি নিয়ন্ত্রক (স্পিড ব্রেকার/স্পিড গান) ও নিয়মিত তদারকি না থাকায় প্রতিনিয়ত এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা। সড়কে নিয়মিত পুলিশি নজরদারি ও চালকদের বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জোরালো দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।