৪৯ বছরের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপি। মঙ্গলবার দলটি উদযাপন করতে যাচ্ছে তাদের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এ উপলক্ষে আবারও আলোচনায় এসেছে দলটির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ঘোষিত ঐতিহাসিক ১৯ দফা কর্মসূচি।
১৯৭৭ সালের ৩০ এপ্রিল ঘোষিত এই ১৯ দফা পরবর্তী সময়ে বিএনপির রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক নীতির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
প্রায় অর্ধশতাব্দী পেরিয়ে গেলেও ১৯ দফার বিভিন্ন বিষয় এখনো প্রাসঙ্গিক বলে মনে করেন দলটির প্রবীণ নেতারা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
১৯ দফার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, আত্মনির্ভরতা, জাতীয় ঐক্য ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
এতে জাতীয় জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক ন্যায়বিচারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রশাসনের সব স্তর ও উন্নয়ন কার্যক্রমে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি আত্মনির্ভরশীল অর্থনীতি গড়ে তোলার কথাও বলা হয়।
১৯ দফায় ধর্ম, বর্ণ ও মতাদর্শ নির্বিশেষে নাগরিকদের অধিকার সুরক্ষা এবং জাতীয় ঐক্য ও সংহতি জোরদারের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।
কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের বাস্তবতায় কৃষির উন্নয়ন, বন্যা ও খরার ক্ষয়ক্ষতি কমানো এবং পানি ব্যবস্থাপনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করে উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়।
জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার নিশ্চয়তার কথা উল্লেখ রয়েছে ১৯ দফায়। দেশকে নিরক্ষরতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যও এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এ ছাড়া গ্রামীণ উন্নয়ন, নগর ও গ্রামের বৈষম্য দূরীকরণ, প্রশাসনের বিকেন্দ্রীকরণ এবং জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
১৯ দফার অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে দুর্নীতি প্রতিরোধ, মানবসম্পদ উন্নয়ন, শ্রমিকের অধিকার, সিভিল সার্ভিস সংস্কার, ভূমি সংস্কার, বেসরকারি খাতে প্রণোদনা এবং যুবসমাজের ক্ষমতায়ন।
নারীর অধিকার, মর্যাদা ও আর্থসামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি উন্নয়নের মূলধারায় নারীদের সম্পৃক্ত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে এই কর্মসূচিতে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সার্বভৌমত্বের প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের কথাও বলা হয়।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর জিয়াউর রহমান তার সরকারের আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক দিকনির্দেশনার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে ১৯ দফা গ্রহণ করেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে বিএনপি। দলটির নেতাদের দাবি, বর্তমানে দেশের অগ্রগতি ও উন্নয়নের ক্ষেত্রেও শহীদ জিয়ার সেই ১৯ দফার আদর্শ ও লক্ষ্যই তাদের পথনির্দেশ করছে।
প্রতিষ্ঠার ৪৯ বছরের পথে বিএনপি—আর সেই দীর্ঘ যাত্রায় ১৯ দফা এখনো দলটির রাজনৈতিক পরিচয় ও কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে রয়েছে।