রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০২ পূর্বাহ্ন

পাকুয়াখালীসহ সকল বাঙালি গণহত্যার বিচার করতে হবে: পিসিসিপি

রাঙামাটির লংগদুতে ৯ সেপ্টেম্বর পাকুয়াখালী গণহত্যা দিবসের স্মরণে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ পিসিসিপি  লংগদু উপজেলা শাখার উদ্যােগে শোক র‌্যালি দোয়া মুনাজাত ও শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে লংগদু উপজেলা সদরে শোক র‌্যালি করে প্রধান সড়ক ঘুরে এসে মাঠে পাকুয়াখালীতে নিহত গণ কবরের সামনে দোয়া, মুনাজাত ও শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়।


পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ পিসিসিপি লংগদু উপজেলার সহ-সভাপতি মোঃ মামুনুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মো. মনির হোসেন এর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন প্রচার সম্পাদক জাহিদ বিন খালিল, লংগদু সদর ইউনিয়নের সভাপতি মো. নাসির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম হৃদয়, সহ-সভাপতি নাজমুল ইসলাম মাইনী মুখ ইউনিয়ন সভাপতি মো. শরিফুল ইসলাম সহ উপজেলা নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও ভুক্তভোগী পরিবার সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এসময়ে পিসিসিপি নেতৃবৃন্দ বলেন, পাবর্ত্য চট্টগ্রামের সন্ত্রাসী সংগঠন জেএসএস’র সশস্ত্র শাখা শান্তিবাহিনীর হাতে অসংখ্য বর্বরোচিত, নারকীয় ও পৈশাচিক হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছে পাবর্ত্য অঞ্চলের বাঙালিরা। অসংখ্য ঘটনার মধ্যে আজ শনিবার পাবর্ত্য চট্টগ্রামের ইতিহাসে একটি নৃশংসতম বর্বর গণহত্যা দিন, পাকুয়াখালী ট্রাজেডি দিবস।


১৯৯৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পিসিজেএসএস এর সশস্ত্র শাখা শান্তিবাহিনী কর্তৃক রাঙামাটি জেলার লংগদু উপজেলার পাকুয়াখালীতে নিরীহ বাঙালি কাঠুরিয়াদের ওপর নিমর্ম নিযার্তনের পর হত্যাকান্ড চালিয়ে তাদের বীভৎস মানসিকতার এক জঘন্যতম জিংঘাসার স্বরূপ উন্মোচন করে। পাবর্ত্য চট্টগ্রামের ইতিহাসে এই দিনটি একটি নৃশংসতম বর্বর গণহত্যার দিন। এই দিনে ৩৫ জন নিরীহ বাঙালি কাঠুরিয়াকে নিমর্মভাবে হত্যা করেছিল শান্তি বাহিনী। তাদের ক্ষত-বিক্ষত, বিকৃত লাশের নিমর্ম দৃশ্য দেখে সেদিন শোকে ভারী হয়ে ওঠেছিল পরিবেশ। হাত-পা বেঁধে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে, দা-দিয়ে কুপিয়ে এবং বন্দুকের বেয়নেট ও অন্যান্য দেশি অস্ত্র দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে নানাভাবে কষ্ট দিয়ে হত্যা করেছিল সেদিন অসহায় ওই মানুষগুলোকে। প্রতিটি লাশকেই বিকৃত করে সেদিন চরম অমানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে শান্তিবাহিনী।

বক্তারা বলেন, মানবাধিকার এবং ন্যায়ের ভিত্তিতে পাবর্ত্যাঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্যই পাকুয়াখালী গণহত্যাসহ পাহাড়ে সকল বাঙালি গণহত্যাকান্ডের তদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করা প্রয়োজন। অন্যথায় পাবর্ত্যাঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার আশা কোনোদিনই সফল হবে না। পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ও সম্প্রীতি রক্ষায় সশস্ত্র অবৈধ অস্ত্রধারী ও দেশদ্রোহী সন্ত্রাসী সংগঠন জেএসএস ও ইউপিডিএফকে নিষিদ্ধ করতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামে গণহত্যার দায়ে খুনি সন্তু লারমা ও প্রসীত খীসা সহ তাদের সংগঠনের সকল সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূল শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

Share this news as a Photo Card


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page
09 September 2026

পাকুয়াখালীসহ সকল বাঙালি গণহত্যার বিচার করতে হবে: পিসিসিপি

www.deshbanglabd.tv |
deshbanglatvnews
deshbanglatvnews