সালমান শাহর মৃত্যু নিয়ে দীর্ঘদিনের নীরবতা ভেঙে মুখ খুলেছেন জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা শাবনূর। সম্প্রতি রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদের দেওয়া বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তার নাম উঠে আসার পর শনিবার এক দীর্ঘ ফেসবুক পোস্টে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন এই অভিনেত্রী।
শাবনূরের দাবি, রিজভী আহমেদের বক্তব্য পরস্পরবিরোধী এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও মানহানিকর।
শাবনূর তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় একসময় রাজসাক্ষী হওয়া রিজভী আহমেদ আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা বলেছিলেন। পরবর্তী সময়ে আবার ভিন্ন বক্তব্য দিয়ে সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
শাবনূরের প্রশ্ন, একই ব্যক্তি একই ঘটনা নিয়ে সময়ে সময়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিলে তার সর্বশেষ বক্তব্যের বিশ্বাসযোগ্যতা কতটা গ্রহণযোগ্য।
সম্প্রতি দেওয়া সাক্ষাৎকারে রিজভী আহমেদ শাবনূরের সঙ্গে সম্পর্ক, এমনকি ২০১৬ সালে বিয়ে ও ২০১৮ সালে বিচ্ছেদের দাবিও করেছেন বলে উল্লেখ করেন এই অভিনেত্রী।
তবে শাবনূর এসব দাবি অস্বীকার করে বলেন, রিজভীর সঙ্গে তার কখনো কোনো সম্পর্ক বা যোগাযোগ ছিল না। এমনকি ওই সময় তিনি যুক্তরাজ্যেও যাননি বলে দাবি করেন শাবনূর।
সালমান শাহকে ব্ল্যাকমেইল করা কিংবা তার ব্যক্তিগত জীবনে কূটনামি করার অভিযোগও সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি।
শাবনূরের দাবি, রিজভী আহমেদের সঙ্গে তার কখনো কোনো যোগাযোগ ছিল না এবং তার বিরুদ্ধে করা এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
এ ছাড়া রিজভী আহমেদের বিভিন্ন বক্তব্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শাবনূর। তার ভাষ্য, রিজভীর সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে এমন কিছু দাবি রয়েছে, যেগুলো তার কাছে অবাস্তব ও অসংগতিপূর্ণ মনে হয়েছে।
নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে শাবনূর বলেন, সালমান শাহর মৃত্যু বা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার বিন্দুমাত্র কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। সালমান শাহ কীভাবে মারা গেছেন, সে সম্পর্কেও তার কোনো ধারণা নেই।
সালমান শাহকে নিজের প্রিয় সহশিল্পী ও বড় ভাইয়ের মতো মানুষ হিসেবে উল্লেখ করে শাবনূর বলেন, তার অকাল মৃত্যু আজও তাকে ব্যথিত করে।
একই সঙ্গে সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী। ঘটনায় কেউ জড়িত থাকলে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিও দাবি করেন তিনি।