শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৬ অপরাহ্ন
Headline :
বর্ণাঢ্য আয়োজনে নোবিপ্রবিতে ৪র্থ ন্যাশনাল সায়েন্স ফেস্টের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে প্রতিটি রাষ্ট্র একসঙ্গে বিকশিত হবে: প্রধানমন্ত্রী গাজীপুরে হাতিমারা হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে বই বিতরণ, নবীনবরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নোবিপ্রবির সিএসটিই ক্লাবের নতুন কমিটি গঠিত ক্যাম্পাস পেরোলেই অনিরাপত্তা,শঙ্কায় নোবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা শারদীয় দুর্গাপূজায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে টানা ১০ দিনের ছুটি সুন্দর হাতের লেখার প্রতিযোগিতায় পুরস্কার বিতরণ এমপি মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর মঞ্চে হঠাৎ শুভশ্রীর কপালে দেবের চুমু, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে চর্চা ন্যাটোর সঙ্গে উত্তেজনা, পারমাণবিক হামলার হুমকি রাশিয়ার

বর্ণাঢ্য আয়োজনে নোবিপ্রবিতে ৪র্থ ন্যাশনাল সায়েন্স ফেস্টের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) সায়েন্স ক্লাবের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ‘৪র্থ নোবিপ্রবি ন্যাশনাল সায়েন্স ফেস্ট-২০২৬’ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার (০৩ অক্টোবর ২০২৬) র‌্যালির মাধ্যমে দুই দিনব্যাপী আয়োজিত এ ফেস্টের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। এ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, নোবিপ্রবিতে সায়েন্স ফেস্ট একটি ব্যতিক্রমী আয়োজন, যেখানে প্রায় ১২০০ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছে। বিজ্ঞানের প্রতি শিক্ষার্থীদের এই আগ্রহ দেখে আমি আনন্দিত।

আজকের এ অনুষ্ঠানে আমি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি, যিনি মেয়েদের উপবৃত্তির প্রচলন করে তাদের পড়াশোনায় উদ্বুদ্ধ করেছিলেন এবং যার প্রতিফলন সায়েন্স ফেস্টে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই নারী। ফেস্টে ৩৮টি স্কুল-কলেজ ও ১২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন প্রজেক্ট নিয়ে অংশগ্রহণ করছে, যা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। উপাচার্য আরও বলেন, আমাদের সময় এতো টেকনোলজি ছিলো না। তোমাদের হাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এর মতো প্রযুক্তি রয়েছে।

তোমরা এআইকে শিক্ষার উন্নয়নে, গবেষণায় ও তোমাদের প্রতিভা বিকাশে কাজে লাগাবে। আজকে তোমরা সর্বশেষ প্রযুক্তিসহ ডিজিটাল ক্লাসরুম পাচ্ছো, আমাদের সময়ে এ সুযোগ ছিল সীমিত। এ সময় উপাচার্য ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনার পাশাপাশি বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেয়ার আহ্বান জানান। ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য সহযোগিতা বৃদ্ধি করা হবে বলেও উল্লেখ করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নোবিপ্রবি উপ-উপাচার্য ও সায়েন্স ক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, ২০২০ সালে নোবিপ্রবি সায়েন্স ক্লাবের যাত্রা শুরু হয়। সংগঠনটি আজ চতুর্থ জাতীয় সায়েন্স ফেস্টের আয়োজন করেছে। যেখানে স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করছে। শিক্ষার্থীরা তাদের নিজস্ব চিন্তা-ভাবনা থেকে প্রজেক্ট ডিজাইন করেছে এবং নিজেদের প্রজেক্ট নিয়ে এখানে এসেছে। আমরা সেগুলো ভিজিট করবো এবং সেরাদের নির্বাচিত করবো। এই প্রজেক্ট আইডিয়া তৈরিই তাদেরকে আগামী দিনের বিজ্ঞানী হওয়ার ক্ষেত্রে উদ্বুদ্ধ করবে বলে আমার বিশ্বাস।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খালেদুজ্জামান, নোবিপ্রবি কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. সাইফুদ্দিন মো. তারিক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. আদনান মান্নান। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন নোবিপ্রবি বিজিই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও সায়েন্স ক্লাবের উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ মফিজুল ইসলাম, আইসিই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও সায়েন্স ক্লাবের উপদেষ্টা ড. মো. আমজাদ হোসেন, ফলিত গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও ক্লাবের উপদেষ্টা অবদুল করিম, সায়েন্স ফেস্টের প্রথম কার্যকরী কমিটির সদস্য মাহমুদ হাসান তুহিন এবং নোবিপ্রবি সায়েন্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাদমান বিন রাকিন। অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য রাখেন সায়েন্স ক্লাবের সভাপতি সুবাহ তাসনিয়া। এ সময় অন্যানের মাঝে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী, সায়েন্স ক্লাবের সদস্য, প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক ও সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, আয়োজনে নোবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য মোট নয়টি সেগমেন্ট রাখা হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি সেগমেন্টে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন। চারটি সেগমেন্টে নোবিপ্রবির বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করবে। বাকি দুটি সেগমেন্ট স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত রাখা হয়েছে।

জাতীয় পর্যায়ের তিনটি ইভেন্ট হলো: পোস্টার প্রেজেন্টেশন, থ্রি মিনিটস রিসার্চ আইডিয়া প্রেজেন্টেশন ও রোবট লাইন রেস কম্পিটিশন। নোবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে প্রোগ্রামিং কনটেস্ট, ই-স্পোর্টস, দাবা প্রতিযোগিতা ও ফটোগ্রাফি কনটেস্ট। এছাড়া স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য থাকছে প্রজেক্ট শোকেজ ও সায়েন্স অলিম্পিয়াড। নয়টি সেগমেন্টে মোট ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার প্রদান করা হবে। আয়োজনে নোবিপ্রবিসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১২ শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।
ওমর ফারুক, নোবিপ্রবি ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page